চলন বিলের ভূত
নাম দেখে কেউ ভয় পাবেন না।মূলত, আমার ছোটবেলা থেকে চলনবিলের যে ভূত আমার মাথায় উঠেছিল। তা জীবনে ৩৩ বসন্ত পারি দেয়ার পর নামালাম।আর এ ভূত নামাতে গিয়ে কী যে যন্ত্রণা আর মৃত্যুঝুকিতে পড়েছিলাম, তা আজ জানাবো..নেকটার থেকে আর ২ দিন পর বিদায়। এরপর সোজা চট্টগ্রাম যাবো।কিন্তু আমি যে ছোট বেলা থেকে নাটোরের চলনবিলের প্রেমে পড়ে আছি!সে চলনবিল না দেখেই আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে!? আমার রুমমেট নাটোরের লোক।তাকে বার বার বলার পরও তিনি আমার আবেগের জায়গাটা বুঝতে অক্ষম ছিলেন।
যাহোক “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে ,তবে একলা চলরে” কথার অনুসারে একা বেরিয়ে পড়লাম। গেইটে দেখা হলো সাঈদ আকন স্যার আর ইলিয়াস স্যারের সাথে। তারা জিজ্ঞেস করলো,কোথায় যান? আমি বললাম,নাটোর চলন বিলে। তারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো ,একা?!আমি বললাম,অনেককে বলেছি,কেউ রাজি হয়নি তাই,একাই যাচ্ছি।শুনে সাইদ স্যার ইলিয়াস স্যারকে বলল ,চলেন স্যার আমরা সহ ঘুরে আসি।ইলিয়াস স্যার নিমরাজি থাকলেও সাঈদ স্যারের আগ্রহে রাজি হলেন।বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক ছিল,খুবই খারাপ,পুরা রাস্তা উল্টানো।ইলিয়াস স্যারও পাক্কা পাইলট।৭০-৮০ মিনিট চালানোর পর চলন বিলের কাছাকাছি জামতলী বাজারে এসে বিরতি নিলাম। সেখানে চা-সিগারেট খেয়ে পুনরায় গাড়িতে উঠলাম।মিনিটখানেক চালানোর পর,একটা বাস আমাদের জন্য এক বিগত জায়গাও না রেখে আমাদের গা ঘেষে চলে গেলো!বাসের হঠাত এমন বিবেকহীন আচরণে ইলিয়াস স্যার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রাস্তার নিচে হোন্ডা নামাতে গেলেন । কিন্তু সেখানেও বিধি বাম!রাস্তার পাশে ছিল এক ফুট পুরু বালির স্তর। বালি পেয়ে গাড়ি সেখানেই দাড়িয়ে গেল।হঠাৎ ব্রেকের কারণে আমরা পিছনের ২ জন গিয়ে পড়লাম ইলিয়াস স্যারের উপর। গাড়ি কাত হয়ে রাস্তার উপর পড়ল।তিন জনেই ইনজুরড হলাম।তবে বাকি ২ জনের ইনজুরি দৃশ্যমান হলেও । আমার দৃশ্যমান ইনজুড়ি ছিল কম।ওরা ২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে বাজারে গেলেও আমি আহত পা নিয়ে হতবম্ব হয়ে হোন্ডা পাহারা দিতে গেলাম।।যাহোক ,পরে সিদ্ধান্ত হল,সাইদ স্যার ,ইলিয়াস স্যারকে নিয়ে ধীরে ধীরে গ্রামের রাস্তায় মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে আসবেন। আর আমি বাসে ব্যাক করবো।
কিন্তু ফিরার পথে মনে হলো,এত কাছ থেকে ফেরার আফসোস এ জীবনে আর শেষ হবেনা।ভাঙ্গা পা ,ছেড়া পেন্ট ,ও এক্সিডেন্টে বিপর্যস্ত ময়লা শরীর নিয়ে হলেও আজ চলন বিলে যাবো।টমটমে উঠলাম,১০ টাকায় চলন বিলের গেটে নামিয়ে দিল।সেখান থেকে আবার চলন বিলের মাঝে পানিতে ডুবা নাস্তায় নামিয়ে দিল,১০ টাকার বিনিময়ে।সেখানে পানিতে পা ভিজিয়ে,পা টেনে টেনে হাটলাম আর চারদিক দেখে কল্পনার চলন বিলের সাথে মিলালাম।সময় স্বল্পতার কারনে নেীকায় না চড়ে বেক করলাম।বাসস্ট্যান্ডে এসে বগুড়ার বাসে উঠলাম।মাথা থেকে চলন বিলের ভূত আস্তে করে নেমে গেল!৮ টার মধ্যে নেকটারে পেীছে গেলাম। সেখানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা চলছিল।সেখানে গিয়ে সবার সাথে নেচে গেয়ে আনন্দ করলাম।স্টেজে একটি দলীয় সঙ্গীত পারফর্ম করলাম।অনুষ্টান শেষে রুমে ফিরলাম। ধীরে ধীরে রাস্তায় পড়ে পাওয়ো মাথার আঘাতটির ব্যাথা প্রকট হতে লাগলো......






আল্লাহর কাছে লক্ষ কোটি শুকরিয়া যে আমাদের তিনি প্রাণে বাঁচিয়েছেন। আরো শুকরিয়া যে আপনার চলন বিল দেখা হয়েছে। আমারও কিন্তু খুবই ইচ্ছে ছিলো বাট বিধিবাম। ভালো থাকবেন স্যার।
ReplyDelete